দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল-গ্যাস স্থাপনায় হতাহতের ঘটনায় কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর ঘটনাগুলো গুরুতর। সৌদি আরবের জবাবও হতে হবে সমান গুরুতর।
সোমবার রিয়াদে ওয়ার্ল্ড পেট্রোলিয়াম কাউন্সিলের (ডব্লিউপিসি) জ্বালানি কংগ্রেসের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার মধ্যেও সম্মেলনে অংশ নেওয়ায় শিল্প খাতের নির্বাহী ও নীতিনির্ধারকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
রোববার সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজধানীর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি টার্মিনালে হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর আগের দিন হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আরেকটি টার্মিনালে ১৩ জন নিহত হন। হামলার পর টার্মিনালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
গত বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরের একটি স্থাপনা ও মাটিতে থাকা একটি উড়োজাহাজে দুটি হামলায় তিন সৌদি নাগরিক নিহত হন। তাঁদের একজন দেশটির রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়ার পাইলট ছিলেন। শনিবার টার্মিনাল-৩-এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চার সৌদি নাগরিকের পাশাপাশি দুই বাংলাদেশি, একজন করে মার্কিন, মিসরীয়, জর্ডানি, সিরীয়, ফিলিস্তিনি, সুদানি ও ভারতীয় নাগরিক নিহত হন।
রোববার টার্মিনাল-৪-এ একটি বস্তু আঘাত হানলে পাকিস্তানি এক প্রবাসী নিহত হন বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (জিএসিএ)। একই দিন সন্ধ্যায় দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় দাম্মাম শহরের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলা হয়। তবে সেখানে কেউ হতাহত হননি।
পরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, তাদের বাহিনী পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে একটি ড্রোন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
হুথিরা এসব হামলার দায় স্বীকার করে বলেছে, পশ্চিম ইয়েমেনের তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি আরবের হামলার জবাবে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারেয়া এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, আগের ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে সৌদি আরবের ১২৪টি বিমান হামলার জবাবে রিয়াদ ও দাম্মামের বিমানবন্দর এবং পূর্বাঞ্চলের দুটি তেল-গ্যাস স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
সৌদি বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার না করতে বিমান সংস্থা ও যাত্রীদের প্রতি সতর্কবার্তাও পুনর্ব্যক্ত করেন সারেয়া। তবে মক্কা ও মদিনার সঙ্গে যাতায়াতকারী ফ্লাইটকে এর বাইরে রাখা হয়েছে। হুথি মুখপাত্র বলেন, সৌদি আরবের হামলা বন্ধ এবং ইয়েমেনের জনগণের ওপর অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডব্লিউপিসি জ্বালানি কংগ্রেসের উদ্বোধনী বক্তব্যে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তাকে স্বতঃসিদ্ধ ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সৌদি আরবের অবকাঠামো, প্রতিষ্ঠান, জনগণ ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতার পরীক্ষা নিয়েছে। তবে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশটি এগিয়ে যাবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
শনিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দা জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত হওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। অন্যদিকে ইরান উত্তেজনা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। তেহরান দীর্ঘদিন ধরে হুথিদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ইয়েমেনে ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা থেকে সরকারকে উৎখাত করার পর গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করলে সংঘাত আরও তীব্র হয়। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের হামলা ও লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। গত সপ্তাহে ইয়েমেন সরকার হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ড পুনর্দখলে নতুন অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয়। সৌদি বিমান হামলার সহায়তায় বাব আল-মান্দেবের আশপাশের কিছু এলাকা পুনর্দখলের দাবি করেছে সরকারপন্থী বাহিনী; তবে ভূখণ্ড হারানোর কথা অস্বীকার করেছে হুথিরা।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/